আলো-অন্ধকার

রাত্রির অন্ধকার যখন নেমে আসে
এবং গভীর হয় প্রহর তখন তুমি অনেক দূরে
তোমাকে তখন দেখতে পাই না
কিন্তু দূরত্ব তখন মিলিয়ে যেতে থাকে চরাচরে

বস্তুর সঙ্গে বস্তুর প্রভেদ ঘুচিয়ে দ্যায় অন্ধকার
জগতের সমস্ত কিছুই তখন অনায়াসে আমার চিন্তার অধিকারে

মনে হয় তোমার শরীর তার নিশ্বাস ও প্রশ্বাসের দোলাচল
সমস্ত কিছুই যেন আমার স্পর্শের সীমার ভেতরে
তখন অন্ধকারের নিস্তব্ধতা ও ঐক্যের মধ্যে
তুমি আনন্দের কাঙ্ক্ষিত কুসুম হয়ে স্বপ্নে ফুটে উঠতে পার
যেন কিছু অন্ধকারে নিঃশেষ হয়নি বরং একীভূত হয়েছে
যেন মনে হয় প্রভাতের আলোক উদ্ভাসের সঙ্গে সঙ্গেই
তোমার ওষ্ঠ তোমার চোখের চাওয়া ও কণ্ঠস্বর
খুজেঁ পাবে তাদের গ্রাহ্যবস্তুসমূহ
আরেকটি কণ্ঠস্বর আরেকটি শরীরে স্পর্শকাতরতা আরেক হৃদয়ের কম্পন
কিন্তু তবু প্রভাতের প্রথম আলোক
তোমাকে আমার নিকট থেকে দূরে সরিয়ে নেয়
এবং আমি আর তোমাকে ছুতেঁ পারি না
আমি আর তোমার দৃষ্টির গোচরে থাকি না
কেননা আলো আবার সমস্ত বস্তুর ঠিকানা নির্দিষ্ট তরে দ্যায়
কেবল নতুন কিছু নিঃসঙ্গতা নতুন কিছু বেদনা নতুন কিছু
বিবর্ণতা থেকে যায় দৃশ্যর গোচর।