বংশী নদীতে বর্ষা নামে

বর্ষার উতল মেঘ যখন বৃষ্টি ছড়াতে প্রস্তুতি নেয়
আকাশগঙ্গায় যখন কালো মেঘের ফুসেঁ ওঠা পালের বিপুলতা
ধারাজলের আশু সম্ভাবনা ঘোষণা করে বিদ্যুতের করতালিতে
আর তারি নিচে ভরা বংশী নদীর তরঙ্গিত স্রোত
কর্ণপাড়া থেকে ধেয়ে যেতে থাকে সোজা দক্ষিণে
এবং উদ্যোগী হয় বুড়িগঙ্গাকেও যৌবনে উদ্বেলিত করতে
আর সঙ্গে সঙ্গে ওপার থেকে ধেয়ে আসা তীরের ফলার মতো বৃষ্টিতে বাঁশবনের কাঠিনাচ প্রবল হয়ে সঙ্গত করতে থাকে দ্রুত লয়ে;
তখন সেই বিশাল গম্বুজের উপুড় করা বাটির মতো
আকাশের নিচে ঘূর্ণায়মান দিগন্তের কাজলরেখা উজিয়ে
সমস্তটা আকাশজুড়ে একটা বর্তুল মুখ
আমাকে সম্পূর্ণ অধিকার করে ফ্যালে,
তখন বাংলার নগর আর নগর থাকে না
সবগুলো শহর হারিয়ে যায় দিগন্তজোড়া সবুজ আর ধূসরের মধ্যে
নীলাভ ধূসর অতীত মেঘের ঝেঁপে আসা বৃষ্টির সাথে সাথে
নেমে আসতে থাকে একটা নিশ্চিত প্রাগৈতিহাসিক প্রসন্নতার মতো; গ্রামবাংলার সবুজের ধূসর মেঘ আর নীলাঞ্জন রেখা
কখন একাকার হয়ে একটা প্রায় বিমূর্ত জলরঙের ল্যান্ডস্কেপ
হয়ে অস্পষ্ট দাগ থেকে স্পষ্ট অবয়বে জেগে ওঠে একটা মুখের মধ্যে
বাংলার সেই মুখ সজল পেলব স্নিগ্ধতার যে মুখ
জীবনানন্দ দেখেছিলেন এমনকি সুধীন দত্তও দেখতে
বাধ্য হয়েছিলেন শ্রান্ত বরষার অবেলার অবসরে;
আজকে হঠাৎ আষাঢ়ের ডমরু বাজলো আর সেইসব
বিমূর্ত কথাগুলো মূর্ত হলো মেঘের শাড়ির সজ্জায়
বিদ্যুতের পাড়ে আর তার আড়াল থেকে ঝলকে উঠলো
তোমার কাঞ্চণ মুখাবয়ব এবং তখনি
প্রবল বর্ষণে তোমার ললিত তরঙ্গায়িত তনুতে দেখি
গ্রামবাংলা জলরঙে ধুয়ে কেমন উজ্জ্বল হয়ে উঠছে আবার।