বিশ্বাসের প্রয়োজন ছিলো

আজকাল আর কোনো অপেক্ষা করি না, করতে পারি না,
কেননা দেখে দেখে জীবনের প্রাদুর্ভাব পরাভব শঠতা সখ্যতা
যতকিছু মানুষের সম্পর্কের ঠিক ও ঠিকানা, সবকিছু দেখে শুনে
বার বার অবান্তর যত কথকতা প্রগলভতা সন্দর্ভ প্রাজ্ঞতা
এইসব ব্যতিক্রমী হাবভাব এখন এর সবকিছু সওয়া হয়ে গ্যাছে;
ভালোলাগা ভালোবাসা প্রেম আকর্ষণ দ্রোহ ও দ্যোতনা,
যতকিছু চিত্তের বিক্ষেপ বিচ্ছিন্নতা বিপন্নতা মন্বন্তর
আমাকে এখন আর তেমন কোনো গভীরে নাড়ে না.
কেন যেন বিশ্বাসের কাল চলে গ্যাছে বলে মনে হয়
অন্তত আমাদের পরিচিত বাতাবরণ থেকে অনেক আলোকবর্ষ দূরে;
কাউকে কোন দুঃখের কথা বলতে গেলে মনে হয়
সেখানেও হয়তো বা বড় কোনো প্রবঞ্চনা থেকে গ্যালো,
উদ্দীপনার কথা তো আর কতকাল কোনভাবে মনেই পড়ে না;
অথচ এখনো ম্লান সন্ধ্যায় কখনো সখনো দাদীর সিন্দুক থেকে
ভারাক্রান্ত পেলব স্মৃতির গন্ধ ভেসে ভেসে আসে
শরতের মেঘের মতো উজ্জ্বল আকাশে কখনো বা অন্ধকারে
সন্ধ্যার বাতাসে সন্তর্পণে কেঁপে কেঁপে শ্রান্ত যাত্রীর মতো;
কমে আসে ঘুম নিশুতি রাতের পরোতে পরোতে
প্রহরের ভাজেঁ ভাজেঁ কষ্টের পাঁচালী চলে অবিরাম
এইভাবে কালের যাত্রার সাথে চলে গ্যালো অনেক সময়,
আর এরই ভেতরে আমাদের সম্পর্কের যে প্রভাবসমূহ নানারঙে
নানাসুরে বাঁধা ছিলো জীবনের নানাবিধ পালা ও পার্বণে;
তারা কতোসব ধ্বনি ও প্রতিধ্বনিতে প্রণিপাতে ব্যঞ্জনায় শব্দের পরম্পরায় চিন্তা আর প্রকৃতির আনাচে কানাচে স্বপ্নের কুশীলব হয়ে ছিলো
বর্তমানে তাদের অবয়বগুলো অস্পষ্ট হতে হতে মিলিয়ে যায় বিবর্ণ রেখায়; তবুও ক্যানো আজা সামান্য কোন এক চরিতার্থতাকে পরম প্রাপণীয়
মনে করে আমাদের কোন কোন অনাবিল ভালোবাসাকে
বিনষ্ট করে দিয়ে চলে যায় বিপন্ন বিবেক,
আর কেবলি রক্তগঙ্গা বয়ে যায় অবিরাম ধূসরে সবুজে;
একদিন আমার মা ও বাবা ছিলেন আমার প্রতিদিনের ঘনিষ্ট ছায়ায়, আজকে তাঁরা কোন অচিন পৃথিবীর কোমল জমিনে বসেন নামাজে?
অথচ আমার মধ্যে তাদেঁর দৃশ্যমান অবয়ব নানাভাবে নানান ভঙ্গীতে হয়তোবা সূক্ষতম কোষে উপস্থিত হতে থাকে বার বার;
তবুও এখনো আশ্চর্যজনকভাবে হাতছানি দিয়ে ডাকে চমৎকার অর্পিত
কৈশোর
এছাড়াও অনেক আসঙ্গ আছে, নানা ঢঙে নানা রঙে তারা কাছে আসে আবার মিলিয়ে যায় দূরে দূরতম নিহারিকার অবিচ্ছিন্ন ধোঁয়াশা আলোতে, তারপর অতীত বর্তমান সব একাকার হতে হতে স্মৃতির অরণ্য ঘিরে,
যেন কুয়াশা চাদরগুলো কেঁপে যায় অবিরাম কেঁপে যেতে থাকে;
সময় কি একরৈখিকভাবে চলে বৃত্তে অথবা বর্তুলে?
যাই হোক কিন্তু সে যে অনবরত চলতে থাকে সেটাতো নিশ্চিত
এই চলমানতার মধ্যে বিধৃত হতে থাকে মানুষের প্রকৃতির ইতিহাস
তার সংস্কৃতি বিচিত্র সমাজ তার সৃষ্টির চঞ্চলতা যতো
তার উত্থান পতন গৌরব বিপন্নতা সমস্ত চলতে থাকে
এমন কোনো দিকে যার ঠিকানা কেউ কখনো জানে না;
তাহলে কোনটা মৌল চলা সত্যের সুনির্দিষ্ট বাক্যাবলি
বেদবাক্য সামগান গৌতমের বোধি তাওরাত ইঞ্জিল
সেমেটিক মানুষের কিংবদন্তী চেতনার স্মৃতিকথা
ফুটে ওঠা ফুল শেষ লগ্নে তারা বলে কোরান করিম?
তবু ক্যানো মানুষের চিত্তের এষণা শ্রেয়োবোধ শুভবুদ্ধি দূর নিহারিকা?
তবু ক্যানো মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব শঠতা বুদ্ধিবিবেক ও হিংস্রতার মধ্যে
শেষকালে শঠতাই শক্তপায়ে চলে; দারুণ দহনে তারা
ভেঙে ফ্যালে যৌথ মিনার, আর যারা নিজেদের
সুসভ্য বলে দাবী করে তারা ধ্বংসে মাতে দেখায়
শক্তের প্রাতিষ্ঠানিক দাম্ভিকতা হিংসার প্রত্যুত্তরে দ্যায় প্রতিহিংসা
এইভাবে এই গ্রহে পারস্পরিক ধ্বংসযজ্ঞ চলে,
হয়তো বা মানুষের বিবর্তনে কোথায় কখনো অসম্পূর্ণ কিছু থেকে যায়;
এই বাতাবরণে কোথায় বিশ্বাস রাখি?
অথচ মানুষেরই কিছু কিছু বিশ্বাসের প্রয়োজন ছিলো
পশু ও পাখিতে তার আয়োজন কখনো ছিলো না।