গাছকাটা

[এই সম্পুরক বৃক্ষটি কোনো এক বিধুর ফাল্গুনে অনাবশ্যকভাবে কর্তিত হয়েছিলো।]

পাতার আড়াল থেকে আনুপূর্ব বেরিয়ে আসে শব্দের করাত
খর্খরে পাতের দাঁত আমজ্জা খুবলে নেয়, বিদ্ধ করে কুরে খায় বুক;

কষ্ট হয় বড় বড় কষ্ট হয় খরায় পুড়েছে দুই চোখ
বাতাসেরা হৈ হৈ বিনষ্ট গুঁড়ো নিয়ে উড়ে যায়
খেলা করে গোস্তাখি মাফ হোক বলে
অনেক বছর ধরে ভেতরে জমেছে যেই ক্রোধ
তাতেও ফাটল ধরে সনির্বন্ধ শুদ্ধ অনুরোধ আকুলি বিকুলি করে
যেন বা এখনি সে প্রচণ্ড নাড়া দিয়ে কাঁপাবে দ্যুলোক-
তাই আজো তার পাঁজরের সন্নিবিষ্ট শোক
রুখো মাটি প্রায় মুর্দার শেষ শয্যা হয়;

অথচ বুনো বৃষ্টি এলেই নামে ঢল আর
পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসে সবুজ পানির মতো ঘাস
বারো মাস এবার নিদারুণ বর্ষা হবে
আগাছায় পরিকীর্ণ হবে এই আপন সাধের বাসভূমি
ফসল দেবে না তবু রক্তেও মজে না যেন সার;
বর্ণমালা বর্ণমালা করে অনেকেই গত হয়ে গ্যাছে
তেত্রিশ বছর গ্যাছে গম্বুজ গড়েছে কিছু লোক
আগাছায় ঢেকেছে ফের সমস্ত ক্ষুধা ও ক্ষত বিপন্ন ফাল্গুনে
এবং দুগুণে করাতের দাতেঁ আমূল বিদ্ধ করেছে তার চোখ

আদ্যন্ত ধরাশায়ী কাটাগাছ বিশুষ্ক মাটিতে কাদেঁ
বৃষ্টি নেই গুঁড়ো ওড়ে করুণ কাণ্ড থেকে কঠিন করাতে
প্রভাতফেরীও ফেরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ক্লান্ত হয় সুর খিন্ন খঞ্জনার মতো শোভাযাত্রা থামে উচ্ছ্বাস উদ্দামতা প্রমমিত হয়ে আসে মুমূর্ষু বাতাসে
আর, বার বার ফিরে আসে অনন্য ফাল্গুন- ঐ এক সুখ,
কেননা দৃষ্টি ফিরাতে দ্যাখো- পাতার ভিতরে ছিলো
আজ যৌবন ছুয়েঁছে তার বুক
নৃত্যের মতোন তাই রক্তে বাজে বিদগ্ধ বেহাগ
যে থাকে সে থাক যাবার সময় হলে
সমস্ত সংরাগ রক্ত অন্ধকার ছুড়েঁ ফেলে দিয়ে চলে যাবো
এমনি ফাল্গুনে যাবো
বিপন্ন কাল গুণে যাবো
আকাঙ্ক্ষায় ছুয়েঁ যাবো উদ্বাহু বিভাসে
মোহিনী নারীর মতো নিতম্বে বিভাসে
তালে লয়ে ছন্দে স্বেদে নিমগ্ন নিবাসে
যুগলে উষ্ণতা দেবো পরম্পরা মেপে নেবো
অষ্টাদশী ত্রাসে
যমকে যমকে নেবো ফাল্গুন ভিজিয়ে দেবো
যৌবন জাকিয়েঁ নেবো
জীবনের জিষ্ণু জরায়ণে।