ক্ষমার্হ
[বিদ্রোহী কবিকে]

তখনো মানুষ ছিল শ্যামর বিস্তার ছিল দ্রোহ ছিল
কালের যাত্রা ছিল তবিতব্যের বাঁকা রঙধনুর দিকে
তখনো স্বস্তি ছিল হৃদয়ে সুষুপ্তি ছিল
আমাদের বহুবিশ্লিষ্ট বর্ণময় স্বপ্নের নিমগ্ন ভেতরে
তখনো যুদ্ধ ছিল যুদ্ধের সমাপ্তি ছিল
এবং স্বাধীনতার বিপুল আকাঙ্ক্ষা ছিল
আবেগের শব্দময় কেন্দ্রের ভেতর

তখন তুমি হরিণের মত ক্ষিপ্রতায়
ব্যাঘ্রের মত সংহত শক্তিতে
ছন্দ ছুটিয়েছ দিগ্বিদিক
এবং বিশাল আকাশ পানে তুলেছ মহান ললাট
শতাব্দীর চেয়ে উঁচু
তোমার বিতত বক্ষ থেকে
দেশ মাটি মানুষ ও প্রকৃতি
গান হয়ে উৎসারিত হয়েছে
যেন পদ্মার ভয়ঙ্কর সুন্দর ঊর্মিমালা
সে পদ্মাও এখন মৃতপ্রায়
কেবল অকস্মাৎ কখনো সখনো উদ্বেল
যেন বিগত যৌবনার প্রসাধনে
বয়স ধরে রাখবার করুণ তদবির
যেখানে পানি থাকবার কথা সেখানে
অর্থহীন অনুর্বর বালির ঢিবি
একটা বড় মাপের প্রেক্ষাপটে ছিল
তোমার গর্বিত উত্তরাধিকার
সেই প্রেক্ষাপট ছাড়িয়ে উঠিয়েছিলে
তোমার ঝাঁকড়াচুলের মাথা
কিন্তু আমাদের সাধের বঙ্গদেশে আজ
অনবরত ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী

আমাদের ক্ষুদ্রতাকে তুমি ক্ষমা করো।