অভিবাদন
(একুশের ব্যানার)

সেদিন দারুণ বসন্ত ছিলো
ভয়ঙ্কর আগুন ছিলো কৃষ্ণচূড়ার
আর আগুন ছিলো হৃদয়ে তাদের
অনেক স্বপ্ন ছিলো ফসলের ফুলের
বিস্তৃত স্বাধীনতার
বিন্যস্ত হৃদয়ে তাদের নীড় বেধেঁছিলো
গানের পাখিরা
সুর তুলেছিলো দোতারায় বিবাগী বাউল,
নদীতে ছলচ্ছল বেজেছিলো মৃদঙ্গ মন্দিরা।
তারা সুবেসাদেকের কুমারী আলোয় জেগে
শুনেছিলো দূরাগত আজানের ধ্বনি
তারা শুনেছিলো সন্ধ্যার উচ্চকিত মাঙ্গলিক
কাঁসর ঘণ্টার
এবং দোরগোড়া পেরিয়েই তারা দেখেছিলো
একটি ঘাসের শীর্ষে জড়ানো
শিশিরের বিচ্ছুরিত স্বেদ।
তারা দেখেছিলো অনগাত দিনে ঝলকিত তরবারি
তারা দেখেছিলো সন্ধ্যাসকালে আবেগতাড়িত লাল
তারা শুনেছিলো স্নিগ্ধসবুজে জীবনের করতালি
তারা দেখেছিলো শাণিত ফলায় ক্ষুরধার বীর্যের
তারা দেখেছিলো সমাগত দিনে
জীবনের রেণু ছড়ায় সূর্য
প্রখর রৌদ্রে রমণীয় রাজপথে।

তাদের কি দিয়ে অভিবাদন জানানো হবে আজ
এই অর্বাচীন বসন্তে?
তোমার বিনষ্ট হৃদয়ে আজ শঙ্কা ভীতি সন্ত্রাসের রাহু,
বাস্তুহীন ছিন্নমূল সত্তায় তোমার কেবলি ঘুরতে থাকে
এক নিদারুণ সর্বগ্রাসী ক্ষুধা-
সে ক্ষুধা বিবেক বিপন্ন করে আগ্রাস করে করে আগ্রাসন
ইচ্ছায় লিপ্সায় আকাঙ্ক্ষায় এমনকি ভালোবাসায়,
সে ক্ষুধা সর্বক্ষণ কুরে কুরে খায় অস্থিমজ্জা
যেমন পিঁপড়েরা খায় দলবদ্ধ সহস্র দাঁড়ায় ছিড়েঁ ছিড়েঁ
আরশোলার অসহায় শব,
যেমন পিরানহার সুতীক্ষ্ণ দাঁত মুহূর্তে নিঃশেষ করে
জলজ্যান্ত দেহ এবং
রক্তিম করে শ্রান্ত স্বচ্ছ জল।

এমন ভীষণ ঘাতিনী তুই তবু বারবার কেন অরূপ ফাল্গুনে
পুষ্পের দিকে শস্যের দিকে ফেরাই অমিত চোখ?
আর আচম্বিতে বের করে আনি একটি পুরনো বিপর্যস্ত ব্যানার
বাংলা বাংলা বাংলা,
জননী আমার।