সন্ত্রাসে সহবাস

(বিবেক চলে গ্যালো)
[এখানে একদিন তরঙ্গিত সমুদ্র ছিলো]

সমুদ্র থেকে পর্বত হয়ে
মালভূমে নামে ঢল
একে একে ছোটে শিলার প্রাচীর
ধস নামে অবিরল,
ভেঙ্গে পড়ে চূড়া
পর্বত ভাঙ্গে
মহাদেশ ছেঁড়ে
মন্থর ঘূর্ণনে,
তুষারের চাপে সমতল গড়ে
সুতীব্র শীতে প্রচণ্ড হিমবাহে,
চূর্ণিত নুড়ি বালিয়াড়ি নামে
শিশিরের ঘামে প্রকৃতি ও কামে
থর থর কেঁপে ওঠে,
টিরানোসরাস বুক দিয়ে ঠ্যালে মাটি
এপিসেন্টারে ভূত্বক ছেঁড়ে,
বাসুকির ফণা ফোসেঁ, অন্বিত আক্রোশে।
নীলশিখা জ্বলে বিপন্ন তেজে বিদ্যুৎ বহ্নিতে
নুহের বন্যা লবণের স্বাদ নব্য-পলিতে সবুজের ফাঁদ
টেনে ধরে রাশ কোন অবিনাশ সভ্যতা দুলে ওঠে
দৃশ্যের পটে দূরে সৈকতে রাশি রাশি শ্বেতচন্দন ফেনা তোলে।
কর্ষণে শ্রমে স্বপ্নে ও ভ্রমে সুন্দরও ওঠে জেগে
প্রযুক্ত জ্ঞানে সাধারণ জনে আয়েশের মানে বোঝে,
আর একদিকে মহাকাশ খোলে দ্বার।
তবু মনে হয় জীবকোষে কিছু থেকে যায় যেন ডায়নোসরের বীজ।
[স্বপ্নে ও প্রেমে ত্যাগে বিভ্রমে গড়ে ওঠে ইতিহাস। বার বার
তবু তাড়িয়ে বেড়ায় পশ্চাতে শঙ্কাতে ধ্বংস ও সন্ত্রাস]

তৃতীয় বিশ্ব তৃতীয় নয়নহীন
কেবল পিষছে মারণ অহঙ্কারে
অগুন্তি মুখ তোষণ বিমুখ
বার বার শুধু গণেশ উল্টে দ্যায়।
পাপ ও পূণ্য একদিকে থাক পড়ে
আপাতত পেটে জ্বলছে ভয়ঙ্কর
তীব্র ক্ষুধার ক্ষিপ্ত উষ্ণ আঁচ।
তবু ক্যানো হায় অজান্তে চেয়ে দেখি
ভরা ফাগুনের বিচিত্র রঙে ধরিত্রী ধুয়ে যায়।

[তবুও আবার চকিতেই উঠে শুনি সুবে সাদেকের ধ্বনি
আযানে আযানে রণিত বায়ুস্তর
মৃদুল মন্ত্র উচ্চারে কারা মন্দিরে মন্দিরে]

খরা ও মড়কে বন্যায় ও শোকে
ধুকেঁ ধুকেঁ ঘোরে চাকা
পথে প্রান্তরে নিভৃতে গৃহে
সন্ত্রাস ছোড়েঁ তীর।
টাইফুনে ঝড়ে প্রহরে প্রহরে সৈকতে পচে শব
সুনিপুন তবু মগডালে থাকে কারা?
তদবিরে যত শরীরের সুখ আয়েশী জীবন ডাকে
মধ্যবিত্ত হঠাৎ ক্ষিপ্ত ক্ষমতার সন্ত্রাসে
ইমরাত গড়ে জ্যামেতিক রেগে পারিপার্শ্বিক মোছে।

[হঠকারিতায় পবিত্রতাও যে শেষ। এবার কি তবে সংহার হবে
পরিত্রাণের জন্যে?]

অতএব অকস্মাৎ অকুস্থল ছেড়ে ঝোড়োবেগে বিষণ্ন বিবেক নিষ্ক্রান্ত হয়ে গ্যালো। আমার যে থিতিয়ে যাওয়া শীতের দুপুরের মতো ঈষদুষ্ণ
নির্মল নিমগ্নতা ছিলো, আমার যে নিষ্কলুষ বন্ধুত্বের স্ফটিকে নির্মিত সৌভ্রাতৃত্বের স্বচ্ছ আনন্দের বিচ্ছুরণ ছিলো, আমার যে সূর্যের দিকে
প্রধাবিত আকাঙ্ক্ষার সংবদ্ধ সেতু ছিলো, আমার যে প্রগাঢ়
পূণ্যের অমিতাভ আশ্লেষণ ছিলো- তা যেন নিষ্করুণ নিকষ
অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে গ্যালো। কেননা আমার হাতে
তখনো পিতার উজ্জ্বল রক্ত, হৃদয়ে ভ্রাতৃহননের ম্লানিমা
আর চোখে মাতৃনান্নিধ্যের আত্মঘাতী আভা। অতএব আমাকে
এখন কেবল নিকষ নিপট সমূহ অন্ধকার ঘিরে থাকে।

তিনি কি আবার আসবেন আমাদের গভীরে প্রোথিত প্রাচীন পাপকে
ক্ষালন করতে? তিনি কি আবার নতুন করে গড়বেন
মানুষকে তাঁর নিজের প্রতিরূপে?