স্বস্তি দেবে না

এতোটুকু স্বস্তি দিলে না তাকে। অপহৃত যোদ্ধার নির্মোক।
দুর্দান্ত হাতে তাকে দিলে না রাইফেল, স্টেন, বায়বীয় শোক,
এবং দিলে না ভাঁড়ার ভ’রে সোনালি শস্যের বীজ, বিতত সবুজ ক্ষেত। বহুব্রীহি অতএব সে ছিলো না কখনও এবং এখন অবিরত শীলিত
সঙ্গোপন খুজেঁ ফেরে নিমগ্ন একাকী।
অকস্মাৎ খুলে গ্যালো জাগ্রত আলোকিত দিন চতুষ্পার্শ্ব সমুজ্জ্বল হলুদে পিঙ্গলে বর্ণের প্রস্রবণ যেন ছোটে দিগ্বিদিক- উত্থিত লাঙ্গুল যেন ধাবমান বৃষ এক
স্ফূরিত নাসায় আর গলকম্বলে বুঝি বা আন্দোলিত অন্তরীণ গোপন তাবিজ।
বহুকাল শিখায়েছো রাত্রি এলে গতদিন পাপক্ষয়,
স্নায়ুতে তন্ত্রীতে বুঝি বা স্পন্দিত গান
আরেকটু কাছে এসে থামে তার পরিচিত আয়ূর বলয়,
যদিও বিলয়বোধ নিকষ আঁধারে তার ঠিকানা মজ্জিত
ক্রন্দিত কোলাহল থেকে দূরে,
তর্জনি সঙ্কেতে কোনোদিন ঘটেনি তো মূল্যবান নীতির প্রলয়;
অমেয় বিলাস তার রাখা নেই গোপন সিন্দুকে
রাখা নেই প্রখ্যাত কোনো এক জাদুর প্রদীপ;-
অতএব সঙ্গিনীও অপমান দেখান
কেননা বৃক্ষের সন্ধান জানে না সে রূপোলি ফলের
অহরহ বিপন্ন থাকে তার বারম্বার লোফালুফি রঙিন বলের
বর্ণিল শব্দের, জলের ঢেউয়ের, পাখির পাখার।
মগজে মার্জনাহীন বিকট কীটের চাষ
পদব্রজে শাসায় নগরী
সংলাপে মুগ্ধবোধ পাড়ার মাস্তান,
অবিমিশ্র প্রমত্ত ক্লাউন এক চোখে তার নক্ষত্র বিম্বিত;
বিস্ফারিত কণ্ঠনালী সাবেক মজ্জায় তার জটিল ব্যাধির বাসভূমি,
প্রাচীন খিলানে চত্বরে বারান্দায় অন্ধকার অনর্গল মেলেছে পেখম।
এমন অস্পৃশ্য জীবও বহুকাল ধরে জঞ্জীবিত তোমার মাটিতে,
প্রস্ফুটিত প্রলাপে স্পন্দিত এখন হঠাৎ কেন যেন তুলে ধরে
তুমুল পোস্টার;
এমন তরুও বুঝি বেড়ে ওঠে শাখায় পলবে মন্দ্রিত চন্দ্রালোকে
আপ্লুত আকাশ,
ঝিলের কাজল জলে সন্ধ্যাতারা জ্বলে প্রস্রবণ ঝরে পড়ে অনেক শব্দের, প্লাবনে পুঞ্জিত হয় কচুরীর কোমল হৃদয় শামুকের সিক্ত মন
গেওয়ার নবীন চারা বাড়ে কেওড়ার পুষ্পিত স্তবক,
নেচে চলে অচেনা নর্তকী কম্প্রমান শাপলার বঙ্কিম মৃণাল-
ভেসে যায়, ভেসে যায়, ভেসে যায় প্রেম প্রীতি নীলগন্ধা নদী।

এখনতো শুনছি বেশ দ্রিমিকি দ্রিমিকি রণিত যন্ত্রের ধ্বনি
পঞ্জরে প্রতিধ্বনি শোণিতে শাণিত,
তবু এমন অন্ধকারেও দেবে না তাকে
বরং হয়তো জ্বালিয়ে দেবে মেগাওয়াটে বিদ্যুতে
বিপুল শক্তির এক অবেদ্য আলোক।