এ কোন অঙ্গীকার
(রবীন্দ্রনাথের প্রতি)

এমন হাভাত আমাকে এ কোন অঙ্গীকারে জড়ালে শ্রমণ?
আমার সমস্ত শব্দে সারল্যের প্রণিধিবিহীন কেবলি তোমাকে দেখি,
সৌম্যমূর্তি দীর্ঘকেশ বিদগ্ধ বাতাসে ওড়ে রূপোলি প্রস্তাব
যেন অমলধবল আলখাল্লার ঢেউয়ে সুন্দরের প্রকৃষ্ট বিশ্বাস
ডাকে অহরহ দ্যূতিমান।
আমার কৈশোর যখন নাগরিক নেতির ভেতরে, যখন ন্যুব্জ
আমি নীলিমা দেখিনি
শব্দের রণিতদাপটে ছিলাটান পেশীও বিমুখ থেকে গ্যাছে,
তখনি তোমার জোড়দীঘির মাঠে টগবগিয়ে ছুটে গ্যাছে ঘোড়া,
খুরে খুরে লাল ধূলোয় উড়িয়ে দিয়েছে মেঘ পশ্চিমের দিগন্তে,
নীলিমার স্বপ্ন ফেটে ছিটকে পড়েছে অপার্থিব আনন্দের ফেনা
নীলাঞ্জন সমুদ্রসৈকতে,
সেখানে বিশ্বাস ছিলো, এবং রহস্যাবৃত যা কিছু প্রবল ছিলো
আজ তার সবই তো বিধৃুত;
তবু স্মৃতি ও বিস্মৃতি মিলে কথা বলে, অঙ্গীকার করে কখনো সখনো-
যেন আত্মমেহনের পরে রতির গভীর থেকে উঠে আসে
গোলাপি কৈশোরের রং
এবং বন্ধুজনের সান্নিধ্যের ফোয়ারা থেকে ঝরে পড়ে শ্বেতশুভ্র
মানবিক প্রেম
আর নারীর উষ্ণতা থেকে জন্ম নেয় শিল্পের শঙ্কিত শিশু,
আমাদের মরণের সামনে এসে থমকে যায় স্মৃতির তাড়না,
আমার তৃষ্ণার্ত বক্ষে বাসা বাধেঁ কীট, বিকট ব্যাদিত ব্যাধি
খেলা করে অবিশ্রাম,
স্মৃতির ভেতর থেকে ক্ষীণ ক্ষীণতম শোনা যায় অর্থহীন গান-
আমি সরলতা দিতে গিয়ে প্রতিহত হই
আমি ভালোবাসা দিতে গিয়ে শূণ্যতায় ঠেকি।
কখনও কি ফিরে পাবো সেই বিগত দিনের প্রেম স্বচ্ছ ও বিবেকী
এবং আবার বইবে সেই খরতোয়া পূণ্য জীবনের ইচ্ছামতি নদী?

তবুও নির্ঘাৎ জানি কখনো যাবো না আমি বন্দিত বাহুর বেষ্টনে
যেখানে বিশ্বাস ছোঁয়া যৌবনের নবনীত দেহ।
তোমার বিমূর্ত হাত থেকে শিল্পের নির্জন পালক তুলে নিতে
আমি তো পারিনি কোনদিন,
মধ্যবিত্ত আমাদের রক্তে আজ যদিও নিম্নগামী স্নেহ ও বিবেক
তবু প্রতিষ্ঠিত প্রাসাদের অনুকম্পা নিতে গিয়ে আমি তো হানিনি
বাণ বিনষ্ট বোধির,
কাঙালীভোজনে যারা উচ্ছিষ্টের লোভে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাস রাখে
প্রমত্ত প্রাকারে,
তাদের আসরে আমি কোনোদিন উষ্ণতা দেখিনি,
সমস্ত কষ্টের বোঝা বয়ে তাই থেকে গেছি তোমার ভুবনে গানে আজও।
যদিও আজকে মনে হয় শূণ্য পতিসর রামপুর-বোয়ালিয়া কাদেঁ
পোড়োবাড়ি প্রায় পড়ে থাকে শিলাইদহের কুঠিবাড়ি
তবুও তোমার অসীম ভুবনে গানে মোহ্যমান আমি
আমার জাগরণে, তন্দ্রায়, স্বপ্নের বৈভবে
শুধু তোমারই চরণধ্বনি শুনি নাথ হে।