ভয়ঙ্কর উপস্থিতি

আমি জন্মাবধি বারম্বার
এক ভয়ঙ্কর উপস্থিতি অনুভব করেছি,
আমি জন্মাবধি এক বহমান
জাতিস্মর স্বপ্নকে ধারণ করেছি-
সেখানে সীমাহীন প্রশান্তির মতো করুণা
সেখানে মহাশূন্যের বিপুল স্তব্ধতায়
কয়েকটি মাত্র উজ্জ্বল শব্দের নক্ষত্র
শুভ, সত্য, সুন্দর, ক্ষমা, প্রেম।

অথচ তোমরা দেখেছো কিহে
মাতৃদুগ্ধ পান করে বেড়েছে যে
সেও কী অসম্ভব জিঘাংসু হতে পারে?
কৃষক পিতার ঘাম তার উর্বর শোণিত
শ্রমের ফসল ভুলে গিয়ে
সে কী ভয়ঙ্কর কৃত্রিম বিশ্বাসে ভাঙে মেঘের মন্দির,
আকাশের বিপন্ন খিলান প্রাচীন কারুময় শিল্পের
                              অসহায় গম্বুজ;
ছত্রাক নিরীক্ষায় কেঁপে যায় মায়ের শরীর,
ছিটকে পড়ে পাণ্ডু মাটির মাংস রজনীগন্ধা ও দোপাটী,
দোয়েলের গান থেমে যায় অকস্মাৎ;

      [হে প্রভোঃ উহাদের প্রেরণ করিয়া কি মহান স্বপ্ন
      সাধিত হইবে? উহারা পারস্পরিক বিদ্বেষে কেবল
      জীবনের মধ্যে পরাক্রমের সন্তাস আনিবে যদিও এমনকি
      উহারা যাহাদের নৃপতি কহে তাহারাও নিতান্তই নশ্বর]

এমন কি কথা ছিলো মাটির সন্তান?
আশ্লেষে ও কামে কোষে কোষে জৈবনিক
প্রেমের সংক্রামে মগ্ন মনোরথ তোমার শিকড়
বড়ো নিবিড় গভীরে প্রোথিত ছিলো না কি একদিন?
সপ্রেম সম্পর্ক তোমার স্ফটিক-উজ্জ্বল ছিলো,
প্রথম আকাশ ছিলো বিপুল উদার আর অমলিন,
ঝর্ঝর ঝর্ণায় বাতাসের পূর্ণ ঘ্রাণে
অরণ্যের শিশিরের স্বেদে
পাথরের চোখ ছিলো ঋজু।

প্রভু হে‍! আজ এতো ভাস্কর্য ও চিত্রলেখা
এতো সুর আর সৌকর্যের বাস্তুকলায়
সোপানে সোপানে সে কি সূর্যের প্রচণ্ড দাহন দ্যাখে শুধু?
শোনে অবক্ষয়ের গান নক্ষত্রের মন্দ্রিত বাজনায়?

প্রভু হে! এর জন্যেই কি সহস্র বর্ষের শ্রমের ঘাম
দীর্ঘায়িত রাত্রির একান্ত প্রার্থনা,
লক্ষ মানুষের নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম?

এ সমস্তই কি অবশেষে একটা
ভয়ঙ্কর উপস্থিতির সম্মুখীন হবার জন্যে
      এতোকাল অপেক্ষা করেছিলো?‌‌