বর্তমান একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তির উচ্চ শিখরে দাঁড়িয়ে মানুষ দেখতে পাচ্ছে যে মুদ্রিত বইয়ের যুগও বোধ হয় শেষ হয়ে এল। এখন নতুন প্রযুক্তিতে অতি ক্ষুদ্র মাইক্রোচিপস থেকে কেবলমাত্র ভাষার দৃশ্যমান রূপই যে বেরিয়ে আসবে তাই নয় তার শ্রাব্য রূপও খুব সহজেই বের করে আনা যাবে। আজ থেকে এক শতাব্দী পরে আমরা কি আর এই বই পড়ব? আমার ভাবতে ভাল লাগে তখন ভাষার শ্রাব্য রূপের পুনরুত্থানের ভেতর দিয়ে কবিতা আবার জাগ্রত হয়ে উঠবে।

এই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে ভাবতে আমরা এক সময় পদাবলী বলে এক সংগঠন তৈরি করেছিলাম বাংলা কবিতাকে আবার শ্রবণের মধ্যে আনবার জন্যে, সেই আশির দশকে।

তাতে হয়তো কিছুটা কাজও হয়েছিল কেননা তার পরপরই দেখেছি কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি বিষয়ে তরুণদের মধ্যে নতুন ঝোঁক। আবৃত্তিকে শিল্প হিসাবে যাঁরা নেন তাঁদের কাছে অনেক সংখ্যক শ্রোতার সমীপে তার পারফরমেন্স বা বাস্তব উপস্থাপনাটিই প্রাধান্য পায়। এর মধ্যে আবার এসে পড়ে বৃন্দ আবৃত্তি, যা অনেক সময় কবিতার আত্মাকে হরণ করে। কেননা কবিতা এককভাবে নিবিড়ভাবে উপভোগ করবার বিষয়ও বটে।

এই ধারণা থেকে বর্তমান সংকলনটির জন্ম। এখানে লিখিত কবিতার অবয়বের সঙ্গে সঙ্গে তার শ্রুতি গ্রাহ্য অবয়বটিও সংরক্ষণ করতে চেয়েছি। কবি যেমনভাবে দেখেছেন কবিতাগুলোকে এবং শুনেছেন ঠিক তেমনিভাবে পাঠকের হাতে ও শ্রবণে তুলে দেয়া হলো। কবিতা যাঁরা ভালবাসেন এই নিমগ্নতা ও ভালবাসা তাঁদের ভাল লাগলেই এই প্রয়াসটি সার্থক হবে, নইলে নয়।